গবেষণা

গবেষণার ধাপ
পদার্থবিজ্ঞানে গবেষণা এবং ফলাফল কতগুলো সুনির্দিষ্ট ধাপে সংগঠিত হয় । সেগুলো পর্যায়ক্রমে- 

v  ধারনা/প্রতয়ঃ কোন বিষয় সম্পর্কে বিজ্ঞানসম্মত চিন্তা, উপলগ্ধি বা বোধগম্যতাই হল ঐ বিষয় সম্পর্কে ধারণা বা প্রত্যয় (Concept)
v  অনুকল্পঃ যখন কোন ধারণা বা প্রত্যয় চারপাশের বস্তুজগৎ ও তার আচরণের সাথে মিলে যায় কিন্তু তার উপযুক্ত কোন প্রমাণ থাকে না তাকে বলা হয় অনুকল্প (Hypothesis)
v  তত্ত্বঃ কোন অনুকল্প পরীক্ষার নিরীক্ষা এবং যৌক্তিক ভাবে প্রমাণিত হলে তখন তাকে তত্ত্ব (Theory) বলে মূলত অনুকল্প ও নিয়মের (প্রমাণ) সমন্বয়ে তত্ত্ব প্রতিষ্ঠিত আমেদিও অ্যাভোগাড্রোর অনুকল্প প্রমাণিত হওয়া সত্ত্বেও এটিকে অ্যাভোগাড্রো বলা হয় । এর পিছনে যৌক্তিক কোন কারণ নেই । অ্যাভোগাড্রো তার দেয়া অনুকল্পটি যখন প্রমাণ করতে পারছিলেন না, তখন এটি পুরোপুরি গ্রহণযোগ্যতা না পেলেও এটি ব্যবহার করে সঠিক সমাধানে পৌঁছানো যেত । সে সময় এই অপ্রমাণিত এই অনুকল্পটি ব্যাপকভাবে আলোচিত হয় অ্যাভোগাড্রোর অনুকল্প নামে । তাই এটি প্রমাণিত হলে অনুকল্প পরিচিতিটি রয়েই যায় । তবে একে তত্ত্ব বা সূত্র বলা যাবে । বরং সেটিই অধিক গ্রহণযোগ্য ।  
v  সূত্রঃ কোন তত্ত্ব অনেক পরীক্ষা নিরীক্ষার সাহায্যে প্রমাণ শেষে এর মূল কথাগুলো একটি উক্তির মাধ্যমে প্রকাশ করা হলে তাকে সূত্র (Law) বলে
v  স্বীকার্যঃ কোন তত্ত্ব বা সূত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কখনও যদি এমন কোন সত্য বা ব্যাখ্যার প্রয়োজন হয় যার সম্পর্কে পূর্বে থেকে কোন স্পষ্ট ধারণা বা ব্যাখ্যা দেয়া নেই তখন তা ভৌতজগতের আচরণের সাথে সামজ্জস্য রেখে পূর্বশর্ত আকারে স্বীকার করে নেয়া হয় যাকে স্বীকার্য (Postulates) বলে
v  নীতিঃ যে সকল প্রাকৃতিক সত্য সরাসরি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করা যায় বা প্রকৃতিতে প্রতিনিয়ত ঘটে এবং ঐ সত্যের সাহায্যে অনেক প্রাকৃতিক ঘটনাকে ব্যাখ্যা করা যায় তাকে নীতি (Principle) বলে  
সেই দৃষ্টিকোণ থেকে বলা যায়, সকল তত্ত্বই অনুকল্প, কিন্তু সকল অনুকল্পই তত্ত্ব নয় আর সকল সূত্রই তত্ত্ব, কিন্তু সকল তত্ত্বই সূত্র নয়
এভাবে ধাপে ধাপে এগিয়ে সুত্র তত্ত্ব পর্যন্ত আসলেই একটি গবেষণা পরিপূর্ণতা পায় । 
Written by
Jeion Ahmed
EEE CUET

Post a Comment

0 Comments