টাইম ট্রাভেলের দ্বিতীয় উপায়


ওয়ার্মহোলের মাধ্যমে
তাত্ত্বিকভাবে আলবার্ট আইনস্টাইন স্থান এবং কালের মধ্যে বক্রতার কথা উল্লেখ করেন । তিনি উল্লেখ করেন, অতি ভর বিশিষ্ট কোন বস্তু যেকোন স্থানকে তার কালের সাপেক্ষে বাকিয়ে দিতে পারে । ভর বৃদ্ধির সাথে সাথে এই বক্রতা ক্রমস বাড়তেই থাকবে । স্থান ও কালের এই বক্রতা বা সুরঙ্গ ওয়ার্মহোল নামে পরিচিত । পরবর্তিতে স্টিফেন ডব্লিউ হকিংস এবং কিপ থর্ন ওয়ার্মহোলের এই তাত্ত্বিক ধারণাকে আরও উচ্চ পর্যায় নিয়ে যান । যার ফলে এই তত্ত্ব আরও বেশি প্রতিষ্ঠিত হয় । যদিও ওয়ার্মহোল এখনও আবিষ্কার হয়নি । স্ট্রিং থিওরী খ্যাত প্রফেসর ব্রেইন গ্রেনে উল্লেখ করেন, “মৌলিক ধারণা হচ্ছে যে, মনে কর, ওয়ার্মহোল উন্মোচিত হওয়ার সময় তুমি এতটাই আশাবাদী যে, তুমি মহাকাশে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে পারবে । দেখা যাবে গমনের সাথে সাথে তুমি এক যুগের সময় থেকে অন্য যুগের সময়ে চলে যাবে ।” যাকে উনি এভাবে উল্লেখ করেন, “ One moment in time to another moment in time”. যা সময়ের এক বিশাল ব্যবধান তৈরি করবে । যেহেতু আপনি এক স্কেলের সময় থেকে অন্য স্কেলের সময়ে প্রবেশ করছেন, তাই এমন হতে পারে,আপনি অতিতে ফিরে গেছেন অথবা চলে গেছেন ভবিষ্যতের এক বিশাল সময় ব্যবধানে । সহজভাবে বিষয়টিকে এভাবেও চিন্তা করা যায়, বাংলাদেশে বসে  থাকা একজন পর্যবেক্ষক যখন দেখল, এখন সকাল তৎক্ষণাৎ অ্যামেরিকায় বসে উনি দেখতেন তখন প্রায় বিকেল ছিল । অর্থাৎ বাংলাদেশে যখন সকাল সেই মুহুর্তে সেখানে বিকাল । ওয়ার্মহোলের ক্ষেত্রে ঠিক এমনটাই ঘটে । আপনি যে ওয়ার্মহোলে অবস্থান করছেন, সেই ওয়ার্মহোলে আপনি যে সময় দেখছেন, অন্য কোন ওয়ার্মহোলে হয়তো তখন অতিতের কোন সময় বা ভবিষ্যতের কোন সময় বিরাজ করছে । তাই আপনি যদি এক ওয়ার্মহোল থেকে অন্য ওয়ার্মহোলে গমন করেন, আপনি সেক্ষেত্রে অতিত বা ভবিষ্যতের অন্য কোন এক সময়ে গমন করছেন । অর্থাৎ আপনি নিজেকে টাইম ডাইমেনশনের ধনাত্মক কিংবা ঋণাত্মক যেকোন দিকে নিজেকে সঞ্চালিত করতে পারবেন । কোন দিতে সঞ্চালিত করবে সেটা নির্ভর করছে, স্থান কালের বক্রতা তথা বস্তুর ভরের উপর ।
তবে এক্ষেত্রে একটা বড় সমস্যা হল, ওয়ার্মহোল এখনও আবিষ্কার হয়নি । আর যদি আবিষ্কার হয়েও যায়, তবে টাইম ট্রাভেল হয়তো ভিন্নদিকে মোর নেবে । এক্ষেত্রে ওয়ার্মহোলের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তের বিলিয়ন, ট্রিলিয়ন মিটার দূরত্ব পরিমাণ করাও দুরূহ হবে । ওয়ার্মহোল আবিস্কারের সাথে সাথে হয়তো এক্ষেত্রে কিছু কৃত্রিম অনিয়মিত ঝুকিও আবিষ্কার হতে পারে । স্থান কালের এই মুড়িয়ে যাওয়া থেকে আসতে পারে কোন উচ্চ মাত্রার বিকিরণ । অথবা সংঘর্ষ হতে পারে অজ্ঞাত কোন বস্তুর সাথে । সেজন্যই হয়তো, স্টিফেন ডব্লিউ হকিংস ওয়ার্মহোলকে অস্থির এবং অনির্ভরযোগ্য কণা বলে ধারণা করেছেন । অর্থাৎ, “যখন ওয়ার্মহোল প্রসারিত হয় তখন আশেপাশের বিকিরণ এর মধ্যদিয়ে গমন করবে এবং সেই বিকিরণ রুপান্তরিত হয়ে একটা লুপ আকার নেবে ।” তিনি ব্যাখ্যা করেন, “যদি ক্ষুদ্র ওয়ার্মহোলের অস্তিত্ব থেকে থাকে তাহলে অন্তত তাদের একটাকে খুজে পাওয়া অবশ্যই সম্ভব হবে, তাহলে আর টাইম মেশিন শব্দটা ব্যবহারের প্রয়োজন পরবেনা”। হয়তো তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, টাইম ট্রাভেলের জন্য কোন মেশিন বা যন্ত্রের প্রয়োজন পরবেনা । এক ওয়ার্মহোল থেকে অন্য ওয়ার্মহোলে প্রবেশই হবে সময়ের এক বিশাল ব্যবধান ।
লেখক
জিওন আহমেদ
ইইই চুয়ে

Post a Comment

0 Comments