গ্রহ নক্ষত্রের প্রকৃত ঘুর্ণন

ভরকেন্দ্র শব্দটির সাথে আমরা মোটামুটি সবাই পরিচিত । জ্যোতির্বিজ্ঞান বা জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞানে এই ভরকেন্দ্র এক জটিল এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে । যেদিন থেকে আমরা মহাকাশ বিদ্যার সাথে পরিচিত হতে শুরু করেছি সেদিন থেকেই আমরা জেনে আসছি, সৌরজগতে সূর্য্য স্থির এবং পৃথিবী সহ সৌরজগতের সকল গ্রহ নক্ষত্র সূর্য্যকে কেন্দ্র করে ঘুরছে । বৃত্তাকার বা উপবৃত্তাকার পথে । এটি সত্য নয় তবুও আমরা এখনও এটিই পড়ছি । গ্রহ নক্ষত্রের গতিপথকে সহজভাবে বুঝানোর জন্যই শুধুমাত্র আমরা এটিকে এভাবে সহজভাবে পড়ছি । জটিল এজন্যই যে, এখানে রয়েছে ভরকেন্দ্রের কিছু জটিল ক্যালকুলেশন । সেই জটিল ক্যালকুলেশনগুলোকে এই আর্টিকেলে সহজভাবে তুলে ধরে গ্রহ নক্ষত্রের গতিপথ তুলে ধরার চেষ্টা করব ।

একটি বস্তুর সমগ্র ভর যে বিন্দুতে কেন্দ্রিভুত আছে ধরে নিলে ভুল হবেনা সেই বিন্দুকে বলা হয় ঐ বস্তুটির ভরকেন্দ্র । বুঝতেই পারছি, প্রত্যেক ভর বিশিষ্ট বস্তুর অবশ্যই একটি ভরকেন্দ্র রয়েছে এবং বস্তু যদি কিছুটা হলেও গোলাকার হয়, তবে ঐ বস্তুর ভরকেন্দ্র বস্তুর অভ্যন্তরে কোন এক বিন্দুতেই হবে । কিন্তু যদি আমরা দুইটি বস্তুকে সমন্বিতভাবে বা একসাথে ধরে নিয়ে তাদের একটি ভরকেন্দ্র নির্ণয় করি তাহলে সেই ভরকেন্দ্র অবশ্যই বস্তুদ্বয়ের ভরকেন্দ্রের সংযোগ রেখার কোন এক বিন্দুতেই নতুন ভরকেন্দ্র হবে । দুই বা ততোধিক বস্তুর এরূপ ভরকেন্দ্রকে বলা হয় ব্যারিসেন্টার বা ব্যারিকেন্দ্র । এর প্রয়োজনীয়তা মূলত দেখা যায় মূলত জ্যোতির্বিজ্ঞানে বা জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞানে । সৌরজগতে একটি উপগ্রহ যখন তার গ্রহকে কেন্দ্র করে ঘু্রবে বা একটি গ্রহ যখন একটি নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে ঘুরবে সেক্ষেত্রেই মূলত এই ভরকেন্দ্রের ব্যারিকেন্দ্রের প্রয়োজন । যেমন পৃথিবীকে দিয়ে উদাহরণ দেয়া যাক । আমরা জানি পৃথিবীর দুই ধরণের স্পিন রয়েছে । সে একই সাথে নিজ অক্ষের চারদিকে এবং সূর্য্যের চারদিকে ঘুরতে থাকে । পৃথিবী যখন নিজ অক্ষকে কেন্দ্র করে ঘুরবে তখন এটি এর নিজ ভরকেন্দ্রকে কেন্দ্র করে ঘোরে । আবার যখন সূর্য্যকে কেন্দ্র করে ঘুরবে তখন সূর্য্য এবং পৃথিবীর ব্যারিসেন্টারকে কেন্দ্র করে ঘোরে ।



অর্থাৎ বৃহস্পতি এবং সুর্য্যের ব্যারিসেন্টারটি সূর্য্য হতে বৃহস্পতির দিকে কিলোমিটার দূরে অবস্থিত । যেহেতু সূর্য্যের ব্যাসার্ধ্য 69911 কিলোমিটার । সুতরাং ব্যারিসেন্টারটি অবশ্যই সূর্য্য থেকে বাইরে অবস্থিত । সূর্য্য এবং বৃহস্পতি নিজ অক্ষে ঘুর্ণন ছাড়াও এই বিন্দুকে কেন্দ্র করে একে অপরকে আবর্তন করছে ।

এবার যদি আমরা সূর্য্য বেওং পৃথিবীর হিসেবে আসি, এদের ব্যারিসেন্টারটি সূর্য্যের ভিতরেই অবস্থিত । তাই এই বিন্দুকেই কেন্দ্র করে একে অপরকে প্রদক্ষিণ করবে ।

এখন প্রশ্ন হল, মহাকাশে তো দুইটি বা তিনটি গ্রহ নক্ষত্র নেই । মহাকাশের এই হাজারো গ্রহ নক্ষত্রের সমন্বিত ব্যারিসেন্টারটি ঠিক কোথায় অবস্থিত, তা আমরা জানিনা । আপাতত এতটুকু চিন্তা করতে পারি, এভাবে চিন্তা করলে মহাকাশের এই গ্রহ নক্ষত্রের ঘুর্ণন কতটা জটিল হবে । আপাতত আমাদের চিন্তা এ পর্যন্তই থাকুক । অন্য এক পর্বে এ নিয়ে আলোচনা করা যাবে ।

লেখক
জিওন আহমেদ

Post a Comment

0 Comments