ভ্যাকুয়াম এনার্জি এবং ডার্ক এনার্জি

ভ্যাকুয়াম এনার্জি বা ডার্ক এনার্জি শব্দ দুইটা আমরা কম বেশি অনেকেই শুনেছি । অনেকের নাম শোনার পরই গুগলে সার্চ দিয়েছেন । যখনই দেখেছেন, এই শব্দটির সাথে জড়িয়ে আছে কোয়ান্টাম মেকানিকস তখনই এটা থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন । কিন্তু এটা সবচেয়ে সহজ একটি বিষয় । এক মিনিট ধৈর্য্য নিয়ে পড়লে অবশ্যই বুঝতে পারবেন ।

আমরা শূন্য বলতে কি বুঝি ? যে স্থানে কোন কিছুই নেই তাকেই আমরা শূন্যস্থান বলি । যারা কিছুটা হলেও বিজ্ঞান মনস্ক, তারা বলবে- শূন্য মানে সেখানে বায়ুও থাকতে পারবেনা । হ্যাঁ সত্যি । পদার্থবিজ্ঞানের ভাষায়, শুন্যস্থান হল- যেখানে বাহ্যিক কোন ধরণের কণিকা নেই । বাস্তবে এমন কি কোন শূন্যস্থান আছে ? আছে তো । যেমন- টরিসেলির পরীক্ষায় নলের ভেতরে পারদের উপরতলে সৃষ্টি হওয়া খালি জায়গাটিই হচ্ছে শূন্যস্থান । অথবা আমরা যদি কোন একটি খালি কাচপাত্র থেকে পাম্পের মাধ্যমে এর ভেতরের সমস্ত বায়ু বের করে নেই, তবে কাচপাত্রের ভেতরটাকে বলা হবে শূন্যস্থান বা ভ্যাকুয়াম ।

কিন্তু শূন্য বলতে আমরা যা বুঝছি, তা কি আসলেই শূন্য ? অণু, পরমাণু, কনিকা না থাকলে সেখানে কি আরও কিছু থাকা সম্ভব ? বিজ্ঞান বলছে- সম্ভব । আমরা যাকে শূন্যস্থান বলছি সেখানে কোনো কণিকা না থাকলেও সর্বদা যেটি উপস্থিত থাকে, তা হল শক্তি । কোয়ান্টাম তত্ত্ব অনুসারে যেটাকে বলা হয় কোয়ান্টাম শূন্যতা । আর আমাদের কথিত শূন্য স্থানে যে শক্তি থাকে, সেই শক্তিকে বলা হয় ভ্যাকুয়াম এনার্জি বা ভ্যাকুয়াম শক্তি । আর এক ধরণের গতিশীল ভ্যাকুয়াম এনার্জিকে বলা হয়, ডার্ক এনার্জি । কাজেই আমরা যাকে শূন্য বলে মানতাম তা আসলে শূন্য নয় । আর আমাদের কথিত শূন্য স্থানেই রয়েছে আমাদের এই মহাবিশ্ব সৃষ্টির রহস্য । সে সম্পর্কে না হয় অন্য একদিন লিখবো ।

জিওন আহমেদ

Post a Comment

0 Comments