মহাকাশে একটা আশ্রয় চাই

কেন আমাদেরকে মহাকাশে যেতেই হবে ? এত ব্যায়বহুল হওয়া সত্ত্বেও কেন আমরা বারবার মহাকাশে পাড়ি জমাই ? কেন আমরা চাঁদ থেকে এক টুকরো পাথর আনার জন্য এত এত টাকা ব্যয় করি ? এসবের কি কোন যৌক্তিকতা আছে ? মাঝে মধ্যে এমনটা আপনার মনে হওয়া স্বাভাবিক । কিন্তু এর উত্তরটা প্রশ্নটার চেয়ে সহজ । আমাদের এই মহাবিশ্বকে আমরা যতটা ধীরস্থির আর শান্ত দেখি, এটা কিন্তু ততটা নিরব বা শান্ত নয় । প্রতিনিয়ত যে এতে কত রকমের তান্ডব ঘটে চলেছে, তা আপনার চিন্তার অতিত । কোথাও একটি তারা আর একটি তারার সাথে গিয়ে মহাবিস্ফোরণ ঘটাচ্ছে, কোথাও এক নক্ষত্র এর এক নক্ষত্রের দিকে প্রবল বেগে ছুটে আসছে, যেখানে তাদের মধ্যে সংঘর্ষ নিশ্চিত । যেখানে নক্ষত্রের বিশাল একটা অংশ টুকরো টুকরো হয়ে যাচ্ছে । কখনও বা পুরো নক্ষত্রটাই জলে যাচ্ছে । কোথাও বা ছোট একটা অদৃশ্য ব্ল্যাকহোল তার পাশে আশা বিশাল একটা গ্রহকে মূহুর্তের মধ্যে খেয়ে ফেলছে ।

আর এসবের হাত থেকে আমাদের এই সুন্দর গ্রহটাও কিন্তু নিরাপদ নয় । যেকোন একটা মূহুর্তে আমাদের গ্রহটা চলে যেতে পারে ব্ল্যাকহোলের পেটে । সেখানে আমাদের অস্তিত্বের কোন চিহ্নই হয়তো অবশিষ্ট থাকবেনা । আর এমনতা ঘটা মোটেই অসম্ভব নয় । তাই আমরা যদি এই পৃথিবী ছেড়ে মহাকাশে নিজেদের অস্তিত্ব এবং বিচরণ নিশ্চিত করতে পারি, তবেই হয়তো আমাদের অস্তিত্ব টিকে থাকার কিছুটা সম্ভবনা আছে । আর সেটা না করতে পারলে, একটা নির্জন দ্বীপে আত্নবলিদান দেয়াই হবে আমাদের পরিনতি । আর মহাকাশে বসতি স্থাপন করতে পারি বা না পারি, আমরা যদি চেষ্টা না করে এভাবে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাই সেটা এমন হবে যেন, সেই দ্বীপটার ধ্বংস নিশ্চিত জেনেও আমরা সেখান থেকে নিজেদেরকে বাঁচানোর কোন চেষ্টাই করিনি । তাই আপাতত পৃথিবী ছাড়া এই মহাবিশ্বে কোথায় আমরা টিকে থাকতে পারি, সেটা অনুসন্ধান করতে আমাদের বারবার মহাকাশে পাড়ি জমাতে হবে ।

হয়তো আগামী ৩০ বছরে আমরা চাঁদে নিজেদের একটা ঘাঁটি স্থাপন করতে সক্ষম হব । আর আগামী ২০০-২৫০ বছরের মধ্যে মহাকাশে একটা নিরাপদ বসতি আমরা স্থাপন করতে সক্ষম হব । যেখানে আমরা ইচ্ছে করলেই যেতে এবং ফিরে আসতে পারবো । আপাতত সেই দিনটার অপেক্ষাতেই রইলাম ।

জিওন আহমেদ

Post a Comment

0 Comments