আপেক্ষিক আদ্রতা

আপেক্ষিক আদ্রতা শব্দটা আমাদের কাছে নতুন হলেও এর বিষয়বস্তু আমাদের অজানা নয় । শুধু একটু যুক্তি সহকারে চিন্তা করতে হবে । একবার বুঝলে তোমাদের মাথায় বজ্রপাত পড়লেও সেটা ভুলবেনা ।

মনে কর, তুমি একটা স্কুল দিতে চাচ্ছো । যেহেতু তুমি সমাজে খুব একটা বেশি পরিচিত ব্যাক্তি নও, তাই শুরুতে তোমার স্কুলে শিক্ষার্থী বাড়ানোর জন্য অনেক কাঠখড় পোড়াতে হবে । ধরে নিচ্ছি, তুমি তোমার স্কুলে শুধু প্রথম শ্রেনীর শিক্ষার্থীদেরকে পড়াবে । সে জন্য তুমি একটা রুমে ২০ টা সিট স্থাপন করলে । তোমার স্কুলের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে যাকে রাখতে অনুরোধ করেছো, তিনি আগামী সপ্তাহে তোমার স্কুল পরিদর্শনের জন্য আসবেন । তাই তুমি তাড়াহুড়ো করে ২০জন শিক্ষার্থী জোগাড় করলে । কারণ উপদেষ্টা যদি এসে দেখেন তোমার স্কুলে সিট সংখ্যা অপূর্ণ আছে, তাহলে তিনি নারাজ হবেন । অর্থাৎ তাকে শতভাগ উপস্থিতি দেখাতে হবে ।

সম্পৃক্ত এবং অসম্পৃক্ত অবস্থার সাধারন সংজ্ঞা হল, কোন কিছু উপস্থিতি শতভাগ হওয়া । অর্থাৎ তোমার স্কুলে যতজন শিক্ষার্থীর সিট রয়েছে, যদি সেখানে ততজন শিক্ষার্থী উপস্থিত থাকে, তবে আমরা বলতে পারি, তোমার স্কুল শিক্ষার্থীতে সম্পৃক্ত । আর যদি সিট সংখ্যার চেয়ে শিক্ষার্থী কম উপস্থিত থাকে, তবে সেটাকে বলা হবে অসম্পৃক্ত অবস্থা । অর্থাৎ উপদেষ্টাকে সম্পৃক্ত অবস্থা দেখাতে হবে ।

এবার দেখা গেল যেদিন উপদেষ্টা আসবেন, সেদিন স্কুলে ৫ জন শিক্ষার্থী অনুপস্থিত । এখন তুমি কি করবে ? কোন ক্রমেই খালি সিট দেখানো যাবেনা । তোমার সামনে দুইটা পথ খোলা আছে ।

  1. ৫ টি সিট বের করে রেখে উপদেষ্টাকে দেখাবে, তোমার স্কুলে সিট সংখ্যা ১৫ টি আর শিক্ষার্থীও উপস্থিত আছে । তাহলে তোমার স্কুলে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি শতভাগ ।
  2. ফুটপাত থেকে হলেও অতিরিক্ত ৫ জন ছেলেকে ঐ ফাঁকা ৫ টা সিটে বসিয়ে দিতে হবে । তাহলেও আর কোন সিট ফাঁকা থাকবেনা । অর্থাৎ উপস্থিতি শতভাগ ।

তাহলে তুমি প্রথম ক্ষেত্রে যেটা করলে সেটা হল, শিক্ষার্থীর সংখ্যা পরিবর্তন না করে ধারণক্ষমতাকে কমিয়ে আনলে । যাতে ক্লাসে উপস্থিত শিক্ষার্থী দ্বারাই ক্লাসটি সম্পৃক্ত হয়ে যায় । আর দ্বিতীয় ক্ষেত্রে ধারণ ক্ষমতাকে পরিবর্তন না করে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী এনে সম্পৃক্ত করলে । অর্থাৎ প্রথম ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ধ্রুবক ছিল । ফলে রুমে এই সম্পৃক্ত অবস্থায় শিক্ষার্থীদের কোলাহল, আগের অসম্পৃক্ত অবস্থার সমান হবে । আর  দ্বিতীয় ক্ষেত্রে সিট সংখ্যা বা ধারণ ক্ষমতা ধ্রুবক ছিল । কিন্তু শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে । যার ফলে রুমে কোলাহল আগের চেয়ে বেশি হবে । সাধারণ ভাষায় শিক্ষার্থীদের এই দুই কোলাহলের অনুপাতকে আমরা হলে থাকি । তাহলে, 

আপেক্ষিক আদ্রতা = প্রথম ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের কোলাহল / দ্বিতীয় ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের কোলাহল

এক্ষেত্রে প্রথম ক্ষেত্রে কোলাহল কম হবে আর দ্বিতীয় ক্ষেত্রে বেশি হবে বলে আপেক্ষিক আদ্রতার মান সবসময় ১ এর চেয়ে কম হবে । তাই একে শতকরায় পরিমাপ করা হয় ।

আমার এই পুরো উদাহরণটিতে শিক্ষার্থীদেরকে ধরে নাও জলীয়বাষ্পের অণু হিসেবে । শিক্ষার্থীদের জায়গা বা সিট হল জলীয়বাস্পের ধারণক্ষমতা । আর শিক্ষার্থীদের কোলাহল হল- ওই জলীয়বাস্পের অণুগুলোর জন্য চাপ । জলীয়বাস্পের ধারণ ক্ষমতার সুইচটা হল- তাপমাত্রা । কোন স্থানের তাপমাত্রা যত বাড়বে, সেই স্থানের জলীয়বাস্পের ধারণক্ষমতাও তত বাড়বে । ফলে সেখানে পানি বেশি বেশি বাষ্পীভূত হবে । তাপমাত্রা যত কমবে, সেই স্থানের জলীয়বাস্পের ধারণক্ষমতা তত কমতে থাকবে । তবে সেক্ষেত্রে সেই স্থানটি অবশ্যই বদ্ধ স্থান হতে হবে । অর্থাৎ আয়তন ধ্রুবক থাকতে হবে ।

জিওন আহমেদ

Post a Comment

0 Comments