প্রান্তিক বেগ কি ?

মনে করুন, একটা গাড়ির বেগ অসীম পর্যন্ত বাড়ানো যায় । ইঞ্জিনের সেই পরিমাণ সক্ষমতা রয়েছে । এখন একটা গাড়ি স্টার্ট করে রাস্তায় চলতে শুরু করল এবং চালক গাড়িটার বেগ বাড়াতেই থাকলেন । যেহেতু গাড়িটার ইঞ্জিনের পক্ষে বেগ অসীম পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব, তাহলে চালক কি চাইলেই গাড়িটার বেগ অসীম পর্যন্ত বাড়াতে পারবেন ?

উত্তরটা অবশ্যই না । কারণ গাড়িটা যখন ধীরে ধীরে চলতে থাকবে তখন রাস্তা এবং বায়ুর সাথে এর ঘর্ষন কম থাকবে । এখন গাড়িটার বেগ যতই বাড়াতে থাকা হবে, তখন বায়ু এবং রাস্তার সাথে গাড়িটার ঘর্ষন আরও বাড়তেই থাকবে । এভাবে গাড়ির বেগ বাড়ার সাথে রাস্তার সাথে গাড়িটার ঘর্ষন বলও বাড়তে থাকবে । ফলে গাড়িটার একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ বেগে গিয়ে এর ইঞ্জিনের বল এবং ঘর্ষন জনিত বল সমান হয়ে যাবে । তখন আর গাড়িটার বেগ বাড়বেনা ।  

যখন শীলা বৃষ্টি হয় কিংবা আকাশ থেকে বৃষ্টির ফোঁটা পড়ে তখনও এমনটাই ঘটে থাকে । বরফ কিংবা বৃষ্টির ফোঁটা যখন আকাশ থেকে পড়তে থাকে, তখন অভিকর্ষজ ত্বরণের কারণে বরফ কিংবা বৃষ্টির ফোঁটার বেগ বাড়তেই থাকে । এই বেগ বাড়ার সাথে সাথে বায়ুর সাথে বরফ বা বৃষ্টির ফোঁটার ঘর্ষন বলও বাড়তে থাকে । একটা সময় গাড়ির মত এই দুই বল সমান হয়ে যায় এবং বৃষ্টির ফোঁটা বা বরফের খন্ডের বেগ বাড়েনা । তখন বরফ বা বৃষ্টির ফোঁটা সমবেগে পড়তে থাকে । যার ফলে এত উপর থেকে পড়া সত্ত্বেও বরফ খন্ড কিংবা বৃষ্টির ফোঁটা টিনের চালের উপর কিংবা ছাতার উপর পড়লে সেটা ফুটো হয়ে যায়না ।

এই যে সমবেগে বস্তুগুলো পড়ল, সেই সমবেগকে বলা হয় প্রান্তিক বেগ । এটি শুধু বায়ুর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়, বরং পানি এবং বায়ু উভয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ।

জিওন আহমেদ

Post a Comment

0 Comments