সোলার সেল এবং আমাদের অনুসন্ধান

বর্তমান সময়ে সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং সম্ভবনাময় গবেষণার বিষয়বস্তুগুলোর মধ্যে অন্যতম হল সোলার সেল । অনেক দীর্ঘ্য একটা সময় ধরে এটি নিয়ে বিজ্ঞান মহলে চিন্তার ক্ষেত্র বেড়েই চলেছে । আর তাই বিশ্বে সর্বাধিক গবেষণা পত্রের বিষয়বস্তুগুলোর মধ্যে সোলার সেল একটি । এর পুরোটা সংগঠিত হয়েছে সোলার সেলের ভবিষ্যৎ সম্ভবনার কারণে । কারণ আজকে আমরা যে সোলার সেল ব্যবহার করছি, তা দিয়ে আমাদের পুরো চাহিদা না মিটলেও সোলার সেলের উন্নতি ঘটানো সম্ভব হলে আমাদের ইলেক্ট্রিসিটির সবটুকু চাহিদা সোলার সেল থেকে মিটাতে পারবো । পাশাপাশি সোলার সেলের সমাধান হবে সবচেয়ে বেশি পরিবেশবান্ধব । আর এখানে ব্যয় হবে সর্বনিম্ন । কারণ এর প্রধান উপযোগ যা হল সূর্য্য, তা আমাদের জন্য উন্মুক্ত এবং নবায়নযোগ্য ।

তরুণ প্রকৌশলী এবং বিজ্ঞানীদের মধ্যে একটা বড় অংশ সোলার সেল দিয়ে গাড়ি বানানোর স্বপ্ন দেখে । কারণ এই গাড়িই হবে সবচেয়ে কম খরচে বেশি পথ পাড়ি দেবার তালিকার গাড়িগুলোর মধ্যে অন্যতম । কিন্তু সেটা সম্ভব হচ্ছেনা । কারণ সোলার সেল নিয়ে এত গবেষণা কিংবা গবেষণা পত্র বের হলেও এতে অনেকগুলো ঘাটতি রয়েছে । যার অনুসন্ধান আজও চলছে । চলুন সোলার সেলে আমাদের প্রধান অনুসন্ধানটি কি তা দেখে আসি ।

সোলার সেল নিয়ে আলবার্ট আইনস্টাইনের ব্যাখ্যা যারা দেখেছেন, তারা জানেন- সূর্য্য থেকে আসা সৌর শক্তির যে অংশটুকু সোলার সেলের উপর পড়ে সেই শক্তি থেকে সোলার সেলের ইলেকট্রন শক্তি শোষণ করে ধাতুর পরমাণুর নিউক্লিয়াস থেকে মুক্ত হয় । আর এই শোষিত শক্তিকে আমরা বলি ঐ ধাতুর কার্যাপেক্ষক । মুক্ত হওয়ার পর বাকি শক্তিটুকু নিয়ে ইলেকট্রন দৌড় দেয় । যার বেগ থেকেই আমরা বর্তনিতে বিভব বা ভোল্টেজ পেয়ে থাকি । এ পর্যন্ত চিন্তা করলে মনে হবে এখানে তো কোন সমস্যাই নেই । কিন্তু সমস্যা আছে । যা খুজে পেয়েছিলেন বিজ্ঞানী কম্পটন ।

কম্পটন দেখান সূর্য্য থেকে আসা শক্তি থেকে কিছুটা শক্তি শোষণ করে ইলেকট্রন মুক্ত হয় এবং বর্তনি দিয়ে ছুটতে থাকে । কিন্তু সূর্য্য থেকে আসা বেশির ভাগ শক্তিই সোলার সেল ব্যবহার করতে পারেনা । তা ফিরে যায় । অর্থাৎ সূর্য্য থেকে আসা শক্তির সামান্য একটা অংশই মাত্র আমাদের সোলার সেল ব্যবহার করতে সক্ষম হচ্ছে । এই পরিসংখ্যানটি প্রায় ২০% । অর্থাৎ আমরা মাত্র ২০% শক্তি ব্যবহার করতে সক্ষম হচ্ছি । যদিও এই হিসাবটি কখনও কম বা বেশি হয়েছে । কিন্তু তা নগণ্য । মাঝে মধ্যে আমরা এর চেয়ে কিছুটা বেশি কিংবা কম পেয়ে থাকি । যা সোলার সেলের উপর তো নির্ভর করবেই । তাছাড়াও এটি অক্ষাংশ এবং জলবায়ুর উপরও নির্ভর করে । পাশাপাশি মেঘবিহিন সূর্য্যের আলো মেঘযুক্ত সূর্য্যের আলো অপেক্ষা বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনে সহায়ক । এসব সমস্যাকে আমরা সহজেই সমাধান করতে পারি । কিন্তু সোলার সেলের মান উন্নত করতে আমাদের আরও দীর্ঘ্য একটা পথ পাড়ি দিতে হবে ।  পরবর্তী একটি আর্টিকেলে সোলার সেলের মান উন্নয়নের ফ্যাক্টরগুলো নিয়ে লিখব ।

জিওন আহমেদ

Post a Comment

0 Comments