হিউম্যানের সাইকোলজিতে নিয়ন্ত্রণ নেই কেন ?


যদি সমীকরণ বা পদার্থবিদ্যার তত্ত্ব দিয়ে চিন্তা করি, তাহলে সবচেয়ে জটিল যে বিষয়টি পাব সেটা হয়তো হিউম্যান সাইকোলজিই হবে। এটা এমন কিছু প্যারামিটার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত, যেগুলোর উপর ওই 

ব্যাক্তির নিজেরই নিয়ন্ত্রণ থাকেনা। একজন ব্যাক্তি যতই উচ্চ ব্যাক্তিত্ব সম্পন্ন হোক না কেন, তিনি 

যাদেরকে সবচেয়ে কাছের মানুষ চিন্তা মনে করেন তাদের কাছে তার বাল্য আচরণগুলো রয়েই যায়। তার ব্যাক্তিগত বিষয়গুলোও অকপটে তার কাছে প্রকাশ করেন। এখানে তার সামান্যতম নিয়ন্ত্রণও পরিলক্ষিত হয়না। তার এত কাছের সেই ব্যাক্তিটি কে হবেন, সেটারও নিয়ন্ত্রণ ঐ ব্যাক্তির হাতে থাকেনা।

সম্ভবত স্বভাব দোষেই আমরা সব থিওরিতে স্রষ্টাকে খুজে বেড়াই, তার নিয়ন্ত্রণকে খুজে বেড়াই। কিন্তু যে বিষয়গুলোকে আমরা এরিয়ে চলি, সেখানেও স্রষ্টার নিয়ন্ত্রনের দৃষ্টান্ত থাকা অসম্ভব নয়। হয়তো হিউম্যান সাইকোলজির উপর ওই নিয়ন্ত্রণগুলোকে একত্রিত করে তিনি এই সুবিশাল নিয়ন্ত্রণ রচনা করেছেন।

তবে সবকিছুর আবার মোড় বা বাক থাকে। সব সাইকোলজির কোথাও না কোথাও দূর্বলতা থেকে যায়। কখনও তা প্রকাশিত হয়, আবার কখনো আড়াল থেকে যায়। একজন মানুষ তার জীবনের একটি ঘটনা বা বিষয়বস্তুকে নিজের থেকে আড়াল করতে মাঝে মধ্যে নিজের আচরণকে পাল্টে ফেলেন। যেখানে কিঞ্চিৎ হলেও মনে হয়, ঐ ব্যাক্তি তার সাইকোলজির উপর নিয়ন্ত্রণ স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছেন। কিন্তু তেমনটা ঘটেনা। এখানে আগে এবং পরের কোন ঘটনার উপরই ঐ ব্যাক্তির নিয়ন্ত্রণ থাকেনা। তিনি শুধু তার সাময়িক দৃষ্টি এবং দৃষ্টিভঙ্গিকে বিভিন্ন দিকে ঘুড়িয়ে দিতে চেষ্টা করেন। যাতে তিনি যা মনে রাখতে চান এবং যা ভুলে যেতে চান তাদের উপাংশগুলো কম বেশি হয় কিংবা দিক পরিবর্তন করে। আর তিনি স্বস্তি পান।

এর মাঝে যা রয়ে যায়, তা হল নিরবতা কিংবা হাসি । যেখানে একজন মানুষ নিজের শারীরিক এবং মানষিক আঘাত লুকাতে চেষ্টা করেন। সেই পরিস্থিতিতে তার সাইকোলজি ঘন ঘন দিক পরিবর্তন হতে শুরু করে। এখানে তাকে আঘাত কিংবা তার প্রতি উৎকন্ঠা তাকে অনেক বেশি ভাবায় এবং সাইকোলজি অনিয়ন্ত্রিত হয়ে ওঠে।

আর এভাবেই মানুষ পুনরায় তার সাইকোলজির উপর থেকে সাময়িক নিয়ন্ত্রণটুকুও হারিয়ে ফেলে।

একজন মেধাবী ছাত্র দুই ধরণের ভুল করে থাকে। এক- সে সহজ বিষয়গুলোকে কঠিন করে চিন্তা করে। দুই- সে সহজ কিংবা কঠিন সকল বিষয়কে বিভিন্ন অ্যাংগেল থেকে চিন্তা করে। তার প্রথমটি তার থেকে মহামূল্যবান সময় কেড়ে নেয় এবং দ্বিতীয়টি তাকে সময়কে কাছে এনে দেয়। কিন্তু এর কোনটির নিয়ন্ত্রণ তার হাতে থাকেনা।

জিওন আহমেদ

Post a Comment

0 Comments